“ভুল করা” একটি বে……শ প্রশংসনীয় কাজ।
কয়েকদিন আগে নাসা 1300 কোটি বছর আগের একটি ফটো প্রকাশ করে। এটি আমাদের মহাবিশ্ব নিয়ে ধারণা স্পষ্টতর হওয়ার অন্যতম ইন্ডিকেটর। এত দূর চলে আসার শুরুটা হয়েছিল, হাজার হাজার উদ্ভট ভুল ধারণার উপর। এরিস্টটল এবং প্ল্যাটোও মহাবিশ্ব নিয়ে অনেক ভুল তথ্য দিয়েছে। প্রতি শতাব্দীতে আমরা নিজেদের বারবার সংশোধন করেছি। আমরা শক্তি, বস্তু, পদার্থ, পরমাণু নিয়ে ২০০ বছর আগে যে অবস্থানে ছিলাম, এখন বেশ ভিন্ন অবস্থানে আছি।
আমি এখন যে স্মার্টফোন চালাই, আইন্সটাইন স্মার্টফোন চালিয়ে যেতে পারেন নি। আমার এক ফ্রেন্ড এইচএসসি শেষ করে স্মার্টফোন ম্যানুফাকচারিং এ কাজ করে। এর মানে কি আইন্সটাইন চিন্তাধারায় পিছিয়ে? আমরা এখন অনেক তথ্য জানি যা আইন্সটাইনও জানতেন না। যেমন, আইন্সটাইন বিশ্বাস করতেন পারমাণবিক অস্ত্র বানানো সম্ভব না। এখন আমরা জানি সম্ভব। আমাদের যে এখন মোবাইলের OLED রঙিন ডিসপ্লে, এ পর্যন্ত আসতে আমাদের অনেকগুলো আইটেরেশন(ভুল) এর দরকার পরে। আমরা সাদা কালো ডিসপ্লে থেকে রঙিন ডিসপ্লেতে আসতে আমাদের অনেক অনেক নতুন জ্ঞান যুক্ত করতে হয়েছে। কিন্তু সাদা কালো ডিসপ্লে একটা স্টেপিং স্টোন রঙ্গিন ডিসপ্লে তে আসার জন্য। আমরা সাদা কালো ডিসপ্লের ভুল না করে রঙ্গিন ডিসপ্লেতে আসতে পারবো না।
এরিস্টটল এর ভুলগুলোও কোপারনিকাস এবং গ্যালিলিও কে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে। সেই ভুলগুলোর উপর ভিত্তি করেই নিউটন মহাকর্ষ ধারনা নিয়ে আসে।
এখন যদি আমি ভুল কিছু ভাবি, ভুল কিছু করি, ইটস ফাইন, সামনে আমি ভাল করবো। আমি না করলে অন্য কেউ করবে।
আমাদের প্রত্যেকটি বিশাল অর্জনের শুরু হয়েছে একদম হাস্যকর ভুল কনসেপ্ট থেকে। পিথাগোরাস আগুন, পানি এবং ৩ টা পদার্থকে মৌলিক মনে করতেন, এই কনসেপ্ট এরিস্টটল এবং প্ল্যাটোর যুগেও বহাল থাকে। পৃথিবীকে ঘিরে সব কিছু ঘুরে, এই কনসেপ্ট এরিস্টটল যুগেও বহাল থাকে। আমরা ভুল সংশোধন করে পদার্থ এবং শক্তি ডিফাইন করি। মৌলিক পদার্থ ডিফাইন করি। অণুর সাথে পরিচিত হই, তারপর পরমানুর সাথে পরিচিত হই। তাকেও ভেঙ্গে আমরা নিউট্রন ইলেক্ট্রনের সাথে পরিচিত। এখন পদার্থ এবং শক্তি নিয়ে আমাদের যে ধারণা তা প্রাথমিক ধারণা থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। এই পুরো যাত্রাটা ছিল মূলত আমাদের ভুল খুজে বের করার যাত্রা। যারা প্রাথমিক পর্যায়ে ভুল ধারণা দিয়েছিল, তারাও সামনে এগিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।